BCS ২০২৬ ফলাফল: N/A

৪৭ তম বিসিএস ভাইভা

প্রার্থী: অমুক
বিষয়: ফিশারিজ
জেলা: N/A
বোর্ড: সাব্বির আহমেদ চৌধুরী স্যার

ক্যাডার পছন্দের তালিকা

1. ফরেন 2. অ্যাডমিন 3. কাস্টমস 4. ট্যাক্স

বোর্ডের প্রশ্ন ও উত্তর

প্র Chairman
তুমি হচ্ছো_অমুক তাইতো?
প্র Chairman
তুমি ৪৫ তম বিসিএসে ফিশারিজ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছো?
প্র Chairman
এখন তোমার চয়েচ হচ্ছে - ফরেন, অ্যাডমিন, কাস্টমস, ট্যাক্স ইত্যাদি তাইতো?
প্র Chairman
তো_(নাম)_ কেমন আছো?
প্র Candidate
(Implicitly answers the Chairman's greeting)
প্র Board Member 1
১৫ আগস্টের পরে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করুন।
প্র Candidate
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। শেখ হাসিনাকে ভারত রাজনৈতিক আশ্রয় প্রদান করায় এবং উভয় দেশের রাজনৈতিক পালাবদলের ফলে সম্পর্কে একধরনের টানাপোড়েন ও বরফাবস্থা সৃষ্টি হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষ থেকেই এই দূরত্ব কমিয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ৫ আগস্টের পরের সার্বিক পরিস্থিতি ও সম্পর্কের রূপরেখা নিচে দেওয়া হলো: কূটনৈতিক উত্তেজনা ও টানাপোড়েন: সরকার পতনের পর বাংলাদেশে ভারতের ভিসা কার্যক্রম ও কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এছাড়া, ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক দাবি এবং সীমান্ত হত্যা ইত্যাদি বিষয় দুই দেশের সম্পর্কে বেশ কয়েক মাস ধরে অস্বস্তি তৈরি করে। রাজনৈতিক মেরুকরণ ও জনমত: দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনামলে ভারত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিল। সরকার পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের জনমনে ভারতবিরোধী মনোভাব বৃদ্ধি পায়, যার ফলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে নতুন করে কৌশলগত সম্পর্ক স্থাপন ভারতের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়। যোগাযোগ ও বাণিজ্য: ট্রানজিট, বিদ্যুৎ ও বাণিজ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো নিয়ে কিছুটা ধীরগতি ও সতর্কতা দেখা গেলেও জ্বালানি আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আসার মতো বিষয়গুলো চালু রয়েছে।
প্র Board Member 1
বরফ গলতে শুরু করার প্রচেষ্টা: সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উভয় দেশের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। দুই দেশের পক্ষ থেকেই দীর্ঘস্থায়ী টানাপোড়েন এড়িয়ে নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও অভিন্ন স্বার্থ রক্ষায় আলোচনার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
প্র Board Member 1
সম্পর্ক অবনতি হয়েছে কেন?
প্র Candidate
(Implicitly answers the question)
প্র Board Member 1
৫ আগস্টই কেন এর জন্য দায়ী?
প্র Candidate
(Implicitly answers the question)
প্র Board Member 1
সম্প্রতি ভারতের একটা অঙ্গরাজ্যে নির্বাচন হয়েছে, সেটা জানো?
প্র Candidate
(Implicitly answers the question)
প্র Board Member 1
নির্বাচনে BJP জিতেছে এবং তৃণমূল হেরে গিয়েছে, তো বাংলাদেশের সাথে নতুন এই স্টেট গভর্মেন্টের সম্পর্ক কেমন হতে পারে?
প্র Candidate
পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকারের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক আগের তুলনায় ভিন্ন মাত্রায় পৌঁছাতে পারে। রাজ্য ও কেন্দ্রে একই দলের সরকার থাকায় তিস্তা পানিবণ্টন ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে কেন্দ্রীয় নীতির সাথে রাজ্য সরকারের বিরোধ কমবে। তবে অনুপ্রবেশ ও পুশ-ইন ইস্যু নিয়ে কিছুটা কঠোরতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
প্র Board Member 1
এই স্টেট গভর্মেন্টের সাথে বাংলাদেশের কি কি চ্যালেন্জ মোকাবেলা করা লাগতে পারে? (যেহেতু আগে পানিবন্টন চুক্তিসহ কিছু সম্ভবনার কথা গুলা বলেছিলাম তাই চ্যালেন্জগুলাও শুনতে চাইলো)
প্র Candidate
(Implicitly answers the question)
প্র External Examiner
হিজবুল্লাহ কি?
প্র Candidate
হিজবুল্লাহ হলো লেবানন ভিত্তিক একটি শক্তিশালী শিয়া ইসলামি রাজনৈতিক দল ও সশস্ত্র সংগঠন। ১৯৮২ সালে ইসরায়েলি আগ্রাসন মোকাবিলার উদ্দেশ্যে ইরানের সহায়তায় এটি গঠিত হয়। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের অন্যতম প্রধান মিত্র এই সংগঠনটি লেবাননের রাজনীতিতেও অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং তাদের একটি বিশাল সামরিক বাহিনী রয়েছে।
প্র External Examiner
হুতি কি?
প্র Candidate
হুতি বা হুসি (Houthi) হলো ইয়েমেনের একটি শিয়া ইসলামপন্থী সশস্ত্র রাজনৈতিক ও সামরিক গোষ্ঠী। তাদের আনুষ্ঠানিক নাম 'আনসার আল্লাহ' বা আল্লাহর সাহায্যকারী। ১৯৯০-এর দশকে ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সাদা (Saada) অঞ্চলে তাদের উৎপত্তি হয়।
প্র Board Member 1
ডি-ডলারাইজেশন কি জানেন?
প্র Candidate
ডি-ডলারাইজেশন (De-dollarization) হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হিসেবে মার্কিন ডলারের একক আধিপত্য বা ব্যবহার কমানোর একটি বৈশ্বিক প্রক্রিয়া। এর ফলে বিভিন্ন দেশ ডলারের পরিবর্তে নিজেদের স্থানীয় মুদ্রা, সোনা বা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক মুদ্রা (যেমন: ইউরো বা চীনা ইউয়ান) ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে।
প্র Board Member 1
ডি-ডলারাইজেশন বাংলাদেশের উপর কেমন প্রভাব ফেলতে পারে?
প্র Candidate
ডি-ডলারাইজেশন (আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের একক আধিপত্য কমানো) বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মিশ্র প্রভাব ফেলতে পারে। আমদানিনির্ভর দেশ হওয়ায় এটি প্রথমদিকে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট ও বাণিজ্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি ডলারের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাবে এবং মুদ্রা বিনিময়ের ঝুঁকি হ্রাসে ভূমিকা রাখতে পারে।
প্র Board Member 1
আমরা তো চায়না ইউয়ান বা রাশিয়ান মুদ্রার পরিবর্তে ইউরো মুদ্রারাও ব্যবহার করতে পারি (((যেহেতু আমি বলেছিলাম যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ানরা হচ্ছে আমাদের RMG এর ভোক্তা তাই ইউয়ান বা রুবল হলে আমরা সমস্যা ফেচ করতে হবে, এক্সপোর্ট আর্নিং ও রিজার্ভে প্রভাব পরবে))) তো ইউরো ব্যবহার করলেও কি সমস্যা ফেচ করতে হবে?
প্র Candidate
(Implicitly answers the question)
প্র Board Member 1
কিভাবে ট্যাক্সের এরিয়া বাড়ানো যেতে পারে? ট্যাক্সজেশন কিভাবে মডার্ণ ওয়েতে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে?
প্র Candidate
ট্যাক্সের আওতা বা এরিয়া বাড়ানোর সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হলো অর্থনীতির অনানুষ্ঠানিক খাত (যেমন: খুচরা ব্যবসা, পেশাজীবী) থেকে টিন (e-TIN) ও রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা কার্যকর করা এবং আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে এআই-ভিত্তিক ডেটা অ্যানালিটিক্স, সম্পূর্ণ ক্যাশলেস পেপারলেস অটোমেশন এবং...
প্র External Examiner
ইরানের মূল শক্তি মূলত নির্ভর করে তাদের শক্তিশালী মিসাইল ও ড্রোন প্রযুক্তি, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান, এবং বিশাল নিয়মিত ও আধাসামরিক বাহিনী-এর ওপর।
প্র External Examiner
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কাকে সাপোর্ট করা যেতে পারে?
প্র Candidate
ইরান।
প্র Board Member 1
আগের উত্তরে বললেন যে আমাদের RMG সেক্টরের প্রধান গ্রহীতা যুক্তরাষ্ট্র এবং আমাদের অর্থনীতি অনাকাংশে পশ্চিমা নির্ভর তাহলে ইরানকে সাপোর্ট করা কি উচিত হবে?
প্র Candidate
(এক্ষেত্রে আমি বলেছিলাম যে Strategically আমাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কাজ করতে হবে তবে Ethicall point থেকে ইরানকে সমর্থন জানানো যাবে {মাথায় ছিলো যে এরপরে প্রশ্ন করলে এইটা বলবো :যেহেতু বাংলাদেশের সংবিধানের ২৫ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক আইন ও UN charter কে সমর্থন করবে এবং বিশ্বের যেকোন প্রান্তের মজলিম দেশের সমর্থন জানাবে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে সমর্থন দিবে)।
প্র Board Member 1
(উনি তালে তালমিলিয়ে বললেন যে: মধ্যপ্রাচ্যের সাথে সম্পর্ক ধরে রাখতে হলেও আমাদের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখতে হবে।)
প্র Board Member 1
আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে কি কি করা যেতে পারে? (আমি SAARC এর সংস্কারের দিকে ফোকাস করেছিলাম)
প্র Candidate
(Implicitly answers the question, focusing on SAARC reform)
প্র Board Member 1
কোন কোন দেশের সাথে আমাদের সম্পর্ক আগে উন্নয়ন করা যেতে পারে?
প্র Candidate
বাংলাদেশের জন্য বৈদেশিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক কূটনীতির ক্ষেত্রে বর্তমান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ। এই লক্ষ্যে নিচের দেশ ও জোটগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন করা সবচেয়ে বেশি ফলপ্রসূ হবে: ইউরোপীয ইউনিযন (EU), যুক্তরাজ্য ও উত্তর আমেরিকা (যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা): বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও অন্যান্য পণ্যের সবচেযে বড় বাজার। ২০২৬ সালে এলডিসি (LDC) গ্র্যাজুযেশনের পর শুল্কমুক্ত সুবিধা ধরে রাখতে ও রপ্তানি বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয দেশগুলোর সাথে বাণিজ্য চুক্তি ও গভীর অংশীদারিত্ব অত্যন্ত জরুরি। মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহ (GCC): সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব এবং কুযেতের মতো দেশগুলো থেকে বিশাল অঙ্কের রেমিট্যান্স আসে। পাশাপাশি এসব দেশে রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও কাজের পরিবেশ উন্নত করতে এই দেশগুলোর সাথে নিবিড় সম্পর্ক প্রয়োজন। ভারত: বাংলাদেশের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার ও নিকটতম প্রতিবেশী। ট্রানজিট সুবিধা, জ্বালানি ও আঞ্চলিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারতের সাথে সমতা ও পারস্পরিক লাভজনকতার ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখা ও দরকষাকষির সক্ষমতা বৃদ্ধি করা দরকার। চীন ও পূর্ব এশিযা (জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া): চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম আমদানির উৎস এবং জাপানের কাছ থেকে বড় ধরনের উন্নযন সহাযতা ও বিনিযোগ পাওযা যায। অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সহাযতার জন্য এই দেশগুলোর সাথে সুসম্পর্ক রাখা অপরিহার্য। আসিয়ান (ASEAN) ও অন্যান্য উদীয়মান দেশ: সিঙ্গাপুর, মালযেশিযা ও ইন্দোনেশিযার সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং এফটিএ (FTA) বা সিইপিএ (CEPA) চুক্তি সম্পন্ন করার মাধ্যমে রপ্তানি পণ্যের বাজার বহুমুখী করা সম্ভব।
প্র Candidate
আপাততো এতটুকুই মনে পরতেছে। যেহেতু আলোচনাধর্মী ভাইভা ছিলো তো এর ফাকে ফাকে আরও কিছু টুকটাক প্রশ্ন ও আলোচনা হয়েছে (সব এখন মনে পরছে না) এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বোর্ডকে আমার উত্তরের সঙ্গে তালমিলিয়ে মাথা নাড়ানো ও মুচকি হাসি হাসতে দেখা গিয়েছে, একপর্যায়ে এক্সটার্নাল-২ এর সেশনে আমিও ওনার সঙ্গে তালমিলিয়ে কিছুটা মুচকি হাসি হেসেছিলাম। আমার কাছে বোর্ড ইতিবাচক মনে হয়েছে। বাদবাকি আল্লাহ তায়ালার রহমত। ধন্যবাদ।